TENET (2020) review

 




নোলানের, TENET দেখা শেষ করলাম। TENET, শব্দ টার মানে হলো “মতবাদ”। একটি প্যালিন্ড্রম শব্দ। মানে এই শব্দ উলটো করলেও হয়, “TENET”। এখান থেকেই একটা ধারনা পাওয়া যায়। এখানে শুধু টাইম ইনভার্ট না। সাথে সাথে সময়ে ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক দিকের একসাথে এসে ভারসাম্য রক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে।

[ স্পয়লার ফ্রি ]

এই সিনেমার একটা ডায়ালগ, “Don’t try to understand it, feel it”. কিন্তু এই সিনেমা শুধু অনুভব করতে গেলে এই সিনেমার আপনার কাছে সবচেয়ে বোরিং সিনেমার একটা হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু এই সিনেমা বুঝলে আপনার দেখা সেরা কাজের একটা হয়ে যাবে। আর একটা কথা, আনপপুলার অপিনিয়ন কিনা জানি না। এই সিনেমা অনেক যায়গায় নোলানের “Inception” এবং “Interstellar” এর থেকেও কমপ্লেক্স লেগেছে। কারণ হলো, এখানে নোলান দর্শকদের একেবারে মূর্খ ভাবেনি। এই সিনেমা নোলান ব্যবসা করার জন্যও বানায়ই নি। আপনার মনে একটা পাজেলের মতে ক্রিয়েট করে দিয়েছে। আপনার দ্বায়িত্ব আপনি থিওরেটিকাল ফিজিক্স পড়ে সেই পাজেল সলভ করা। Inception বা Interstellar এর সিনেমার পাজেল এর সলভ নোলান তার স্ক্রিপ্টের মাধ্যমেই দিয়ে গিয়েছে কিন্তু Tenet এ সে ঘটনা প্রবাহ বলেছে কিন্তু এর পিছনের কাহিনী বলেনি। সে থিওরেটিকাল ফিজিক্স আপনাকে পড়তে বাধ্য করে সেটা শিখে তারপর সিনেমাটা আবার দেখতে, সিনেমার মাধ্যমে বলেছে।

আমি স্পয়লার ছাড়া যদি একটা সীন বলি, সিনেমার একাংশে প্রোটাগনিস্ট, নেইল কে ক্যাথরিনের কাছে কিছু এক্সপ্লেইন করতে বলে। তখন নেইল বলা শুরু করে এই বাক্য দিয়ে, “Let’s start with simple stuff. Every law of Physics”.

স্পয়লার ছাড়া মানে কাহিনী বর্ননা ছাড়া বোঝার জন্য যদি বলতে যাই তাহলে, এই সিনেমা দেখার আগে থিওরেটিকাল ফিজিক্সের ৪ টা টপিক পড়াশুনা করে তারপর সিনেমা দেখতে বসলে সবচেয়ে ভালো হবে। নাহলে এই সিনেমা দুই-তিনবার দেখার দরকার পরবে। মানে যতক্ষন না জানবেন ততক্ষন দেখতে হবে। কারণ এই ৪ টা টপিকের ওভাবে কোনো এক্সপ্লেনেশন দেয়া হয়নি। শুধু ব্যবহার দেখানো হয়েছে। কারণ নোলান ধরেই নিয়েছে আমরা এইগুলি জানি। আমি আগেই বলেছি, এই সিনেমা বানাতে যেয়ে নোলান দর্শকদের মূর্খ ভাবেনি।

টপিক ৪ টি হলো,

১। টাইম ইনভারশন।

২। এন্টিম্যাটার এবং অ্যানিহিলেশন।

৩। এন্ট্রপি আর ইনভারস এন্ট্রপি।

৪। গ্রান্ড ফাদার প্যারাডক্স।

তো শুরু করা যাক,

১। টাইম ইনভারশনঃ

থিওরেটিকাল ফিজিক্সে টাইম ইনভারশন মানে হলো বলা যেতে পারে সময়ের ঋণাত্মকতা। ঠিক সময়কে ফিরিয়ে দেয়া নয়। থিওরেটিকালি পদার্থবিদরা জেনে এসেছিলো, পরিবেশ একটা মিরর ওয়ার্ল্ডে ভারসাম্য রক্ষার জন্য সময় ঋণাত্মক দিকে চালনা করে। কিন্তু পদার্থবিদ ভ্যাল লগসডন ফিচ এবং জেমস করোনিন ম্যাথম্যাটিকালি প্রমান করে সময় ঋণাত্মক দিকে চালনা করা গেলেও ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয়না। এই সিনেমায় ঠিক সেইটাই দেখিয়েছে।

তো এই সিনেমায় টাইম ইনভার্সন করে এই মিরর ইনভার্টেড ওয়ার্ল্ড ক্রিয়েট করা হয়েছে। ভবিষ্যতের কোনো টাইম ইনভার্ট টেকনোলজি দিয়ে। যা কিনা পাস্টে এসেছে এই টাইম ইনভার্টের মাধ্যমেই। যেখানে মিররে বাম পাশে একটা ওয়ার্ল্ড আর বা পাশে যদি ইনভার্টেড ওয়ার্ল্ড থাকে সে ক্ষেত্রে পদার্থবিদ্যার সকল ল’ উলটো চালনা হবে। কিন্তু এখানে একটা ব্যাপার ক্লিয়ার করা দরকার, সময় কিন্তু ফিরিয়ে দেয়া যায়না। সময় চলছে নিজের মতো, শুধু ইনভার্টেড ওয়ার্ল্ড সময়ের বিপরীতে চলে।

২। এন্টিম্যাটার এবং অ্যানিহিলেশনঃ

পার্টিকেল ফিজিক্সে এন্টিম্যাটারের ধারণা এন্টিম্যাটার ধারণায় রুপ নিয়েছে। ধারণা করা হয়েছে যেভাবে পার্টিকেল দ্বারা ম্যাটার বা পদার্থ গঠিত হয় ঠিক তেমনিভাবে এন্টি পার্টিকেল থেকে এন্টি ম্যাটার গঠিত হয়।

যেমন, বেসিক সাইন্স দিয়ে বলি, একটি হাইড্রোজেন ইলেক্ট্রন প্রোটন দিয়ে গঠিত। এখন একটি এন্টিইলেকট্রন এবং একটি এন্টিপ্রোটন মিলিত হয়ে গঠন করে একটি এন্টিহাইড্রোজেন পরমাণু, যেমন করে একটি ইলেকট্রন ও প্রোটন মিলে তৈরি করে একটি সাধারণ হাইড্রোজেন পরমাণু। এখন পার্টিকেল এবং এন্টি পার্টিকেল মিলিত হলে যেভাবে অ্যানিহিলেশন এর মাধ্যমে সকল শক্তি বিমুক্ত হয়, তেমনি ম্যাটার এবং এন্টি ম্যাটার মিলে গেলে অ্যানিহিলেশন বা পূর্ন বলয় বা পূর্নধ্বংস সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করা হয়েছে।

আরও সহজ করে বললে, আপনি যদি নিজের মতো হুবুহু একজনের কখনও পেয়ে যান, যে কিনা আপনার এন্টি পার্টিকেল দিয়ে তৈরী। তাহলে তাকে কখনও ছুবেন না। তাহলে ধ্বংস হয়ে যাবেন।

৩। এন্ট্রপি আর ইনভার্স এন্ট্রপিঃ

সহজ করে বলি। কঠিন, তরল, বায়বীয় সাধারনত পদার্থের এই তিন রুপের মধ্যে কঠিন, তরল যতখানি কম যায়গা নিয়ে ও থাকতে পারে সেইটুকু যায়গা নিয়েই সে থাকতে চাইবে। কিন্তু বায়বীয় পদার্থের বেলায় সেটা না। সে সবসময় যত বেশি পারা যায় তত বেশি যায়গা নিয়ে থাকতে চাইবে। তো তাকে যত অল্প পরিমান বায়বীয় পদার্থই নেয়া হোকনা কেনো তার পার্টিকেল নিজেদের থেকে আরও দূরে যাবে। অর্থাৎ তাদের মধ্যের পার্টিকেলে বিশৃঙ্খলা বাড়বে। এই বিশৃঙ্খলার পরিমানই হলো এন্ট্রপি।

ধরি, একটি গরম পার্টিকেল, আর একটি ঠান্ডা পার্টিকেল পাশাপাশি রাখা হলো। আল্টিমেটলি দুইটি পার্টিকেল একটা কমন তাপমাত্রার দিকে যাবে, মানে ভারসাম্যের দিকে যাবে। এই ভারসাম্যের দিকে যাওয়ার পরিমান নির্নয় করাকে বলে এন্ট্রপি।

থার্মোডায়নামিক্সের সেকেন্ড ল’ অনুযায়ী এই এন্ট্রপি কখনও কমেনা। হয় স্থির থাকে বা বেড়ে যায়। এই এনট্রপির উপর আমাদের পারসেপশন অনুযায়ী সময় কে আমরা দেখি এবং সেটা শুধু একটা ডায়রেকনের দিকে যাচ্ছে সেটা দেখি।

নোলান ঠিক এই ব্যাপারটাই কাজে লাগিয়েছে। সে সময়কে ইনভার্ট করেনি। সে ইনভার্ট করেছে এই এন্ট্রপিকে। মানে ইনভার্স এনট্রপি। যার কারণে আমাদের এন্ট্রপি অনুযায়ী সময়কে দেখার ভিউ টা চেইঞ্জ হয়ে ইনভার্ট হয়ে গিয়েছে। এখানে সময় ইনভার্ট হয়নি হয়েছে পার্টিকেল গুলো মানে মানুষ গাছপালা, যে কোনো অবজেক্ট। তো এমন একটা ডিভাইস বা পার্টিকেল এই সিনেমায় আছে যা কিনা এই এন্ট্রপিকে ইনভার্ট করে দিয়েছে, আর এটাকে কাজে লাগিয়েই নোলান বানিয়েছে টেমপোরাল পিন্সার। 

৪। গ্রান্ড ফাদার প্যারাডক্সঃ

ব্যাপারটা হলো এমন আপনার নিউটনের ল’ পড়তে ইচ্ছে হচ্ছেনা, কঠিন মনে হচ্ছে। তো আপনি পাস্টে যেয়ে নিউটনকে কে তার ল’ আবিষ্কার করতে দিলেন না। তাহলে কি নিউটনের ল’ এর কোনো অস্তিত্ব থাকবে? ব্যাপারটা এমন।

আপনার এই দুনিয়ায় থাকতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। সব বিরক্ত লাগছে। আপনি আপনার ১০০ পুরুষ আগের মানুষকে পেছনে যেয়ে এই দুনিয়ায় আসতে দিলেন না। তাহলে আপনার বাবা, দাদা তো ভালো আপনি সহ আপনার আগের ৯৯ পুরুষই থাকবেনা তো আপনি আসবেন কই থেকে।

এই চারটা কিভাবে এই সিনেমায় এপ্লাই করা হয়েছে সেটা সিনেমা দেখাই না হয় বের করুন।

আরও ছোটোখাটো ব্যাপার আছে। সেসব সিনেমা দেখলেই বুঝবেন। আর কাহিনী এর এক্সপ্লেনেশন দিয়ে দিলে তো স্পয়লার হয়ে যাবে। তাই কয়েকদিন যাক সবার দেখা হোক, কাহিনী এক্সপ্লেইন করে লেখা লিখবোক্ষন।

Movie: TENET. (2020).

Director: Christopher Nolan.

Official trailer



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url